শাহপরীর দ্বীপ–কক্সবাজার

শাহপরীর দ্বীপ

 

 

শাহপরীর দ্বীপের ইতিহাস

জনশ্রুতি হতে জানা যায় শাহপরীর দ্বীপের ইতিহাস এ জড়িয়ে আছে শাহসুজা এবং তার প্রাণ প্রিয় স্ত্রী পরীবানুর নাম।

শাহসুজার স্ত্রী পরীবানুর ‘পরী’ এবং শাহসুজার ‘শাহ’ এই দ্বীপকে শাহপরীরর দ্বীপ বলে ডাকতো। শাহ ফরিদ আউলিয়ার নামানুসারে দ্বীপটির নামকরণ হয়েছে বলে আরেকটি মত রয়েছে।

স্থানীয়দের মধ্যে শাহপরীর দ্বীপ এরকম আরও অনেক নামকরণের ইতিহাস রয়েছে।

শাহপরীর দ্বীপের আয়তন

স্বাধীনতার আগে শাহপরীর দ্বীপের আয়তন ছিল প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১০ কিলোমিটার চওড়া।

বর্তমানে এটি ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৩ কিলোমিটার চওড়া করা হয়েছে।

শাহপরীর দ্বীপে দেখার মতো কি আছে

শাহপরীর দ্বীপে দেখার মতো কি আছে বলতে রয়েছে এর বাম পাশে নাফ নদী অবস্থিত। নদীর অপর পাড়ে বার্মা বা মায়ানমারের সীমান্ত।

শাপুরী দ্বীপ পাহাড় আর সাগরের এক বিশাল সৌন্দর্যের দ্বীপ।

একসময় এটি একটি দ্বীপ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কিছুকাল আগে এটি মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

জেলেপাড়ার পাশেই লবণ মাঠ। দিগন্তজোড়া সল্ট ফ্ল্যাট। দূরে, জলরেখার শেষ প্রান্তে, শিল্পীর আঁকা রেখার মতো আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে গ্রামগুলো। উপরে সমুদ্রের রূপালী আকাশ জ্বলজ্বল করছে।

এখানে, লবণ ক্ষেতের পাশে, ছোট বাঁকা নদীগুলি প্রবাহিত হয় যার মধ্য দিয়ে জোয়ারের সময় সমুদ্র থেকে নোনা জল উঠে যায়। গাঙচিল, সারস বা পোষক পাখিরা ছোট মাছ খুঁজতে সেখানে জড়ো হয়।

টেকনাফ যাওয়ার পথে দেখতে পাবেন উপজাতীয় পাড়া, রোহিঙ্গা বস্তি, পাহাড়ের গুহা আর মাথিনের কুঁড়েঘর। আপনি চাইলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে ট্রলার বা নৌকা ভাড়া করে ঘুরে আসতে পারেন।

নওগাঁ জেলার ভ্রমণ স্থান

শাহপরীর দ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

এবার আসুন শাহপরীর দ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানি।

শাহপরীর দ্বীপের তিনটি সৈকতে গেলেই দেখতে পাবেন সমুদ্রের আকৃতি। জনমানবহীন দ্বীপ গোলার চরে জোসনার আস্তানা পাওয়া যায়।

এখান থেকে মিয়ানমারের মংডু প্রদেশ দেখা যায়। আরকান পাহাড় এবং পরিত্যক্ত গ্রামগুলিতে বার্মিজ সেনাবাহিনীর পোস্ট।

সেসব গ্রামে জীবনধারা ছিল, কিন্তু এখন আর নেই। একটু দূরে থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ দেখা যায়। এখানে রয়েছে বিডিআর চৌকি ও ওয়াচ টাওয়ার।

জেলাপাড়ার ছোট ছোট খুপরিতে একজন জেলের জীবন আপনাকে বেঁচে থাকার জন্য আরও প্রেরণা দেবে এবং সাহসের সাথে আপনি যা ভাবেন তার চেয়েও বেশি এগিয়ে যেতে। সমুদ্রের এত কাছাকাছি হওয়ায় মানুষের কোনো ভয় নেই, সন্দেহ নেই, কোনো উত্তেজনা নেই।

জীবনটা কেমন একটা ছোট্ট কুঁড়েঘরের মতো যেটা ধাক্কা দিলেই ভেঙ্গে পড়ে, যখন সেখানকার মানুষগুলো প্রতিনিয়ত সাগরের সাথে লড়াই করে যাচ্ছে। সাধারণত এই ক্লান্ত পুরুষরা সেই যুদ্ধে জয়লাভ করে। তাদের জন্য সাগর হারমানে। নান্দনিক সৌন্দর্যের ঐতিহ্যবাহী রূপ নিহিত রয়েছে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে।

এসব সৈকতে কোনো লাইফগার্ড নেই। তাই জোয়ারের কোনো লক্ষণ নেই। তাই সমুদ্রে স্নান করতে চাইলে সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার আগে নিজ দায়িত্বে জোয়ার-ভাটার বিষয়ে সচেতন হোন।

কোনো অবস্থাতেই ভাটার সময় সাগরে যাবেন না। জোয়ার যখন রাস্তায় আঘাত করে। আর রাস্তার পাশের গাছগুলো নোনা পানিতে অর্ধেক ঢেকে গেছে। আপনি যতক্ষণ এই দৃশ্য দেখবেন ততক্ষণ আপনার ভালো লাগবে।

শাহপরীর দ্বীপ কোথায় অবস্থিত

অনেকেই জানতে চান শাহপরীর দ্বীপ কোথায় অবস্থিত ? তাদের জানাতে চাই কক্সবাজার জেলার  টেকনাফের সর্বদক্ষিণে শাহপরীর দ্বীপ অবস্থিত , যা টেকনাফ উপজেলার সাবরা ইউনিয়নে অবস্থিত এবং টেকনাফ উপজেলা উপদ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত।

শাহ পরীর দ্বীপের বাম পাশে নাফ নদী অবস্থিত। নদীর ওই পাড়ে বার্মা বা মায়ানমারের সীমান্ত।

শাহপরীর দ্বীপে কিভাবে যাবেন

শাহপরীর দ্বীপে কিভাবে যাবেন তার সুন্দর গাইড নিচে দেওয়া হলো।

সেন্টমার্টিন সার্ভিসের হিনো এসি বাস (01711321143, 01823004488) ঢাকা থেকে সরাসরি টেকনাফ যায়।

এছাড়াও ঢাকা থেকে হানিফ, শ্যামলী, সৌদিয়া, এস আলম ইত্যাদি নন এসি বাস টেকনাফ যায়। কক্সবাজার থেকে যেকোনো বাসে ঢাকা থেকে টেকনাফ সহজেই যাওয়া যায়।

কক্সবাজার শহর থেকে স্থানীয় মাইক্রোবাসসহ বেশ কিছু বাস টেকনাফ যায়।

কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী বাসগুলো আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায় এবং মাইক্রোবাসগুলো শহরের কলাতলী ও টেকনাফ বাইপাস ইন্টারচেঞ্জ থেকে ছেড়ে যায়।

টেকনাফ শহর থেকে জীপ বা সিএনজিতে করে শাহপরীরর দ্বীপে যেতে হয়।

শাহপরীর দ্বীপের গুগল ম্যাপ

আপনি চাইলে শাহপরীর দ্বীপের গুগল ম্যাপ এই লিংকে ক্লিক করে দেখতে পারেন।

শাহপরীর দ্বীপে খাওয়ার ব্যবস্থা

এই শাহপরীর দ্বীপে খাওয়ার ব্যবস্থা ভালই যেমন রয়েছ বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল নে টং । এছাড়াও আর অনেক উন্নতমানের হোটেল রয়েছে যেখানে খাওয়ার ব্যবস্থা অনেক ভাল।

শাহপরীর দ্বীপের আবাসিক হোটেল

শাহপরীর দ্বীপের আবাসিক হোটেল গুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল নে টং । এই পর্যটন মোটেলটি টেকনাফ শহরের বাইরে অবস্থিত। টেকনাফ শহরেও কিছু মাঝারি মানের হোটেল আছে। এ ছাড়া আপনি চাইলে শাহপরীর দ্বীপে তাঁবু তুলে থাকতে পারেন।

শাহপরীর দ্বীপের আবাসিক হোটেল নাম্বার

শাহপরীর দ্বীপের আবাসিক হোটেল নাম্বার হলো বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল নে টং (ফোন: ০৩৪২৬-৭৫১০৪। এই পর্যটন মোটেলটি টেকনাফ শহরের বাইরে অবস্থিত।

উপসংহার

শাহপরীর দ্বীপে আসলে এখানকার প্রকৃতিক সুন্দর্য্য দেখার পাশাপাশি এখানকার উপজাতিদের সর্ম্পকেও জানতে পারবেন।

কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত,

ইনানী বী,

মহেশখালী দ্বীপ,

সোনাদিয়া দ্বীপ,

হিমছড়ি,

রামু বৌদ্ধ বিহার,

রামু রাবার বাগান,

কুতুবদিয়া দ্বীপ,

মেরিন ড্রাইভ,

দরিয়া নগর,

সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইত্যাদি।

আরও পড়ুন

 

 

Leave a Comment