জামালপুর জমিদারবাড়ি – ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও শহর থেকে পীরগঞ্জ যাওয়ার পথে শিবগঞ্জহাট বিমানবন্দর হয়ে জামালপুর জমিদারবাড়ি। জামে মসজিদটি হাটের তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। মসজিদের আঙিনায় প্রবেশ পথে একটি বড় সুন্দর খিলান রয়েছে। তাজপুর পরগণার এক জমিদারবাড়ি থেকে রওশন আলী নামে এক ব্যক্তি এ অঞ্চলে আসেন। তাঁর বংশধরদের পরে এখানে জমিদারি দেওয়া হয়। জমিদারবাড়ির ভিত্তি স্থাপিত হয় ১৮৬২ সালে। বাড়ি নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ১৮৬৭ সালে মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ফলে মসজিদের ব্যয়বহুল নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও জমিদার বাড়ির নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়।

মসজিদের শিল্পকর্ম দর্শনীয়, মনোমুগ্ধকর এবং প্রশংসনীয়। মসজিদটিতে তিনটি বড় গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজের উপরের অংশটি কাচের পাথরের কাজ। মিনারগুলো এই মসজিদের বিশেষত্ব। মসজিদের ছাদে আটাশটি মিনার রয়েছে। প্রতিটি মিনারের উচ্চতা ৩৫ ফুট এবং প্রতিটির নকশা রয়েছে। গম্বুজ এবং মিনারের সমন্বয় একটি অপূর্ব সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। এত মিনার সাধারণত কোনো মসজিদে দেখা যায় না। মসজিদের চারটি অংশ হল প্রধান কক্ষ, আচ্ছাদিত বারান্দা বিশিষ্ট প্রধান কক্ষ, ছাদবিহীন বারান্দা এবং অর্ধেক দেয়াল ঘেরা ছাদবিহীন বারান্দা এবং পূর্ব অংশে কেন্দ্রে চারটি স্তম্ভের উপর ছাদ বিশিষ্ট মূল দরজা।

খোলা বারান্দার দেয়ালে এবং মূল প্রবেশপথের ছাদে ছোট ছোট মিনার রয়েছে। মূল কক্ষের বাইরের অংশের পরিমাপ ২৯×৪৭ ফুট এবং ছাদবিহীন বারান্দার পরিমাপ ২১×৪৭ ফুট। মূল কক্ষের কোণে তিনটি স্তম্ভ রয়েছে। এতে দুটি জানালা, তিনটি দরজা, দুটি কুলুঙ্গি রয়েছে। মসজিদের ভিতরের দরজা, বারান্দা এবং বাইরের দেয়ালে পাতা ও ফুলের সুন্দর নকশা রয়েছে। ভারতের উত্তর প্রদেশের হংসরাজ ও তার ছেলে রামহিত ছিলেন মসজিদের আদি স্থপতি। দ্বারভাঙ্গা এলাকার কারিগররাও নির্মাণ কাজে অংশ নেন।

অবস্থানঃ

ঠাকুরগাঁও শহর থেকে পীরগঞ্জ যাওয়ার রাস্তায় বিমানবন্দরের পাশ দিয়ে শিবগঞ্জ হাট থেকে তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।

Leave a Comment